DSC05055

হাওরে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে

-জি. এম. রুহুল আমীন

৯ মে’১৭ মঙ্গলবার ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জি. এম. রুহুল আমীন এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল হাওরাঞ্চলের বন্যা কবলিত সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর, বাদাঘাট, শ্রীপুর, ধর্মপাশা, বাদশাগঞ্জ, মধ্যনগর, দিরাই, রায়বাঙ্গাল, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, নোয়াখালী বাজার ও সুনামগঞ্জ সদরসহ প্রত্যন্ত এলাকাসমূহ পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেন। পরিদর্শন শেষে (১০ মে’১৭ইং) বুধবার সুনামগঞ্জের স্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিদের সাথে “উদ্ভূত পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা করেন প্রতিনিধি দল।

মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দূর্নীতি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলা, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় হাওরবাসী আজ সর্বঃস্বান্ত। উজানের পানি আর হাওরবাসীর চোখের পানি সেখানে মিলেমিশে একাকার। তাদের দুঃখ-দুর্দশা আজ চরমে। সব মিলিয়ে হাওরে এখন চলছে মানবিক বিপর্যয়। সরকার ত্রাণ সরবরাহের কথা বললেও সব জায়গায় পর্যাপ্ত ত্রাণ এখনো পৌঁছেনি; বরং ত্রাণ বিতরণেও দলবাজ আর দূর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম চলছে।

সভাপতি তার বক্তব্যে আরও বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষ দরিদ্র হলেও শিক্ষার্থীরা মেধাবি ও পরিশ্রমি। অথচ এখনো পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শুকনো মৌসুমে হেঁটে ও বর্ষাকালে নৌকায় দুরদুরান্তের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় এখানকার শিক্ষার্থীদের। হাওরের চলমান বিপর্যয়ে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীরা এতটুকু শিক্ষার আলো থেকেও বঞ্ছিত হচ্ছে।
তাই সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি হচ্ছে, হাওর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে দূর্নীতিবাজদের বিচারপূর্বক তাদের সম্পদ
বাজেয়াপ্ত করে হাওরবাসীর মাঝে বণ্টন করে দিতে হবে। দায়িত্বে অবহেলাকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

পাশাপাশি হাওরাঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। যেহেতু এই বিপর্যয় কর্তৃপক্ষের অবহেলারই অনিবার্য পরিণতি, তাই শুধু আইওয়াশের ত্রাণ নয়; বরং সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ক্ষতিগস্থ কৃষকদের সকল প্রকার ব্যাংক ঋণ ও এনজিও ঋণ মওকুফ করতে হবে এবং আগামী মৌসুমের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ করতে হবে। শুকনো মৌসুমে হাওড়াঞ্চলের খাল ও নদীগুলো খনন করে মাটির পরিবর্তে ইট-বালু-সিমেন্টের মজবুত দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে শুকনো মৌসুমের জন্য পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। শতভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির আওতায় আনতে হবে, যাতে অভাব-অনটনের কারণে কেউ ঝরে না পড়ে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে পর্যাপ্ত পরিমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

কেন্দ্রীয় সভাপতির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও অংশ নিয়েছিলেন, ইসলমী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর সেক্রেটারি জেনারেল শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, যোগাযোগ ও অফিস ব্যবস্থাপনা সম্পাদক নূরুল করীম আকরাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহমুদুল হাসান, শুরা সদস্য ইউসুফ আহমাদ মানসূর,সিলেট জেলা সভাপতি সোহেল আহমাদ, মহানগর সভাপতি শিহাব উদ্দিন, সুনামগঞ্জ পশ্চিম জেলা শাখা সভাপতি মুহাম্মাদ নূরুদ্দীন ও সুনামগঞ্জ পূর্ব শাখা সভাপতি মাসুম বিল্লাহ প্রমূখ।

DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055
DSC05055