ইশা ছাত্র আন্দোলন-এর ২৫ বছর পূর্তিতে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম-এর অনুভূতি

Neyamat

১. বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি যখন এক চরম দুর্দিনে নিপতিত ছিলো, ছাত্ররা যখন লেখাপড়া বাদ দিয়ে রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিয়ে ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তখন হতাশা ও দুর্দশাগ্রস্থ ছাত্র সমাজকে এ অবস্থা থেকে বের করে এনে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। বিশিষ্টজনদের কাছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর আত্মপ্রকাশ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।

২. ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন আপন লক্ষপানে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন শুধু চুড়ন্তি লক্ষ্যে পৌঁছার অপেক্ষায়।

৩. বিশ্বরাজনীতি এখন নিয়ন্ত্রণ করছে ইসলামবিরোধী শক্তিগুলো। ইসলামপন্থিরা বিশ্বরাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বিশ্ব মুসলিম নেতৃবৃন্দ ইসলামের পক্ষে জোরালো ভুমিকা রাখতে না পারায় ভবিষ্যৎ ইসলামী বিশ্বরাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয় তা বলা মুশকিল। পরিবর্তিত বিশ্বরাজনীতিতে অবস্থান নিতে হলে আরো সতর্কতা ও দক্ষতার সাথে অগ্রসর হতে হবে। এক্ষেত্রে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন পরিবর্তনের সূচনা করবে- সে প্রত্যাশা রাখি।

৪. দেখতে দেখতে সিকি শতাব্দিতে পা দিচ্ছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। একথা ভাবতেই অবাক হয়ে যাই। মনে হয় কয়েক বছর আগের কথা মাত্র। কিন্তু হিসেব মিলিয়ে দেখি আসলেই ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। যেহেতু ক্ষমতা নির্ভর রাজনীতির বাইরে একটি সাচ্চা ইসলামী সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন। তাই এ সংগঠনের অর্জন অনেক। আমরা আমাদের সময় যা পারিনি এখনকার নেতৃবৃন্দ সে অনেক কাজই করছে। যা আমাদেরকে বিমোহিত করে। এভাবেই আপোষহীন গতীতে এগিয়ে যাবে এ শহিদী কাফেলা এটাই আমাদের বিশ্বাস।

Qayum

৫. গতানুগতিক ঘুনেধরা ছাত্র রাজনীতিতে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় আপোসহীন ভুমিকা সৃষ্টি করে এর ওপর ইসতেকামাত তৈরি করাসহ গতানুগতিকতার বাইরে একমাত্র ইসলামের জন্যই ত্যাগ ও কুরবানীর দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী একদল মর্দে মুজাহিদ তৈরির কাজ করেছে।

৬. ইসলামী বিপ্লবের পটভ‚মি রচনায় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন-এর ভুমিকা অনস্বীকার‌্য। কেননা ২০০২ সালে ইসলামী মূল্যবোধের সরকারের আমলে যখন আল্লাহর ঘর মসজিদ ভেঙ্গে মার্কেট নির্মাণ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছিল তখন এ সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ ছাত্ররা তাদের সে স্বপ্নস্বাধ ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও সে সংগ্রামে ছাত্র আন্দোলনের ২জন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ও সদস্যকে শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করতে হয়েছিল। ২০০২ সালের ১৫ আগস্ট মালিবাগের শহিদী মসজিদ রক্ষার আন্দোলনে ছাত্র আন্দোলনের ভুমিকা থেকে এ শহিদী কাফেলার দায়িত্বঅনেক। আমার উপর তখন কান্ডারীর দায়িত্ব থাকায় আমি আমাদের ফোরামের সাথে আলোচনা করে একটা ভাল ভুমিকা রাখার চেষ্টা করেছি। সে থেকেই ছাত্র আন্দোলন শহিদী কাফেলায় নাম লেখায়। শহীদদের স্মরণ রেখে পা তাদের ত্যাগ মূল্যায়ন করা উচিত।

সর্বোপরি একটি কথা মনে রাখতে হবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার এ পথ এখনও অনেক দূর। সেক্ষেত্রে হযরত সাহাবায়ে কেরামের ন্যায় ত্যাগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। মনে রাখতে হবে এপথ ভোগের নয়, ত্যাগের।